ঢাকা শনিবার, ১৯শে অক্টোবর ২০১৯, ৪ঠা কার্তিক ১৪২৬

টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করায় হুমকিতে জাবি ছাত্রলীগ নেতা


১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৪:১৩

আপডেট:
১৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২৪

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করায় হুমকির মুখে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ অন্যান্য নেতারা।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের গেস্ট রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম হোসাইন বলেন, 'গত ৯ আগস্ট উপাচার্যের বাসায় যে প্রকল্পের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে সেই তথ্য আমি গণমাধ্যমে দিয়েছি। তার কারণে আমি নানারকম হুমকি পাচ্ছি। গত কয়েকদিন আগে আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে। আজ বিকেল থেকে আমার মোবাইল ফোন থেকে কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না।'


তিনি আরো বলেন, 'আমার ফোনসহ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিয়ামুল হোসেন তাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার ফোনের কানেকশন অফ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপরিচিত বিভিন্ন ফোন নাম্বার থেকে কল করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বলা হচ্ছে। তার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আমি নাকি বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বিরোধী তথ্য ফাঁস করছি।'

এই অবস্থায় হল রেড দেওয়া হতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে সাদ্দাম বলেন, 'বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি আজ রাতে বা যেকোনো সময় আমার হল রেড দেওয়া হতে পারে। আমি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি।'

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাবির অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা দুর্নীতির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ও জাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তরের ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়।

 


ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে প্রকল্পের টাকা থেকে শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি টাকা চাঁদা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা।

একই সাথে এই দুর্নীতির সাথে উপাচার্যের পুত্র, স্বামী, ব্যক্তিগত সচিব ও প্রকল্প পরিচালকের সংশ্লিষ্টতা দেখানো হয়। ৬ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ওই অডিওতে কীভাবে কারা কত টাকা পেয়েছে সেটাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

গণমাধ্যম ও শাখা ছাত্রলীগের সূত্র মতে, ৯ আগস্ট যে চারজন ভিসির বাসায় টাকা বাঁটোয়ারার জন্য গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন ও নিয়ামুল হোসেন তাজ ছিলেন বলে জানান তারা।



তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় শুধু তিন ছাত্রলীগ নেতা নয় বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ও উপাচার্য বিরোধী বলে পরিচিত একাধিক শিক্ষকের মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরিফ এনামুল কবীর।


বিষয়:


Top